টিসিপি / আইপি প্রোটোকল কী ও TCP/IP প্রোটোকলের লেয়ারসমূহ

টিসিপি / আইপি প্রোটোকল কী ?

OSI মডেল এর মতই TCP/IP মডেল ওপেন স্ট্যান্ডার্ড নেটওয়ার্কিং মডেল। TCP/IP প্রোটোকল হলো ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রোটোকল স্যুট। TCP হলো Transmission Control Protocol এবং IP হলো Internet Protocol। TCP ব্যবহৃত হয় কানেকশন-অরিয়েন্টেড নির্ভরযোগ্য ট্রান্সমিশন সার্ভিসের জন্য, আর IP ব্যবহৃত হয় ওই নেটওয়ার্কের প্রতিটি হোস্টের এড্রেস নির্ধারণের জন্য।

OSI মডেলের মত, TCP/IP মডেলও কয়েকটি লেয়ারে বিভক্ত। TCP/IP মডেলটি 4টি লেয়ার বা স্তর এর সমন্বয়ে গঠিত।

 

OSI ও TCP/IP মডেলের লেয়ারগুলোর মধ্যে তুলনামূলক চিত্র:

TCP IP Protocol

অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার (Application Layer):

TCP/IP মডেলে Application Layer টি বিভিন্ন প্রোটোকল ধারণ করে যা OSI মডেলের Application, Presentation, Session লেয়ার সমূহের সকল কাজ সম্পাদন করে থাকে ।

Application লেয়ারে সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রোটোকলসমূহ OSI মডেলে আলোচনা করা হয়েছে।

 

ট্রান্সপোর্ট লেয়ার (Transport Layer):

Transport লেয়ার OSI মডেলের Transport লেয়ারের মতই কাজ করে থাকে। ট্রান্সপোট লেয়ারের কাজ হল সঠিকভাবে ডেটা প্যাকেট সরবরাহ করা। এছাড়া ডেটা প্যাকেটের সঠিক ক্রম, ডেটার উপস্থিতি, ডেটার ডু্প্লিকেট রোধ এই কাজসমুহ এই লেয়ার করে থাকে। কোন ডেটা যদি অনুমোদিত পাকেট এর চেয়ে বড় হয় , তাহলে সেই প্যাকেট কে ভেঙ্গে ছোট ছোট প্যাকেটে বিভক্ত করে এবং এই ডেটাকে পুনরায় জোড়া দেওয়ার কাজটিও ট্রান্সপোর্ট লেয়ার করে থাকে। ডেটাকে এই ভাঙ্গা এবং জোড়া দেওয়াকে বলা হয় ফ্রাগমেন্টেশন এবং ডি-ফ্রাগমেন্টেশন। ডেটা প্যাকেট প্রবাহের গতি নিয়ন্ত্রনও এই স্তর করে থাকে।

এক ডিভাইস থেকে অন্য এক ডিভাইসে ডেটাকে পৌঁছানো নিশ্চিত করার জন্য ট্রান্সর্পোট লেয়ার দুই ধরনের ট্রান্সমিশন ব্যবহার করে:

  • কানেকশন ওরিয়েন্টড (Connection Oriented)
  • কানেকশনলেস (Connection less)

কানেকশন ওরিয়েন্টড: এই ধরনের ট্রান্সমিশন এর ক্ষেত্রে দুটি ডিভাইস এর মধ্যে পূর্ব থেকে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন হয় এবং ডেটা পাঠানোর পূর্বে প্রেরক-গ্রাহক এর সাথে ACK(Acknowledge) মেসেজ এর মাধ্যাম কানেকশন তৈরি করে থাকে।  কানেকশন ওরিয়েন্টড ট্রান্সমিশন এর বৈশিষ্ট্য হল:

  • নির্ভরযোগ্যতা
  • ধীরগতি
  • প্যাকেট রিট্রান্সমিশনের সুবিধা

TCP (Transmission Control Protocol) এর ক্ষেত্রে এই ধরণের ট্রান্সমিশন মোড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যার কারনে এই ধরণের ট্রানসমিশন অনেক সিকিউর হয়ে থাকে।

 

কানেকশনলেস: এই ধরনের ট্রান্সমিশন এর ক্ষেত্রে দুটি ডিভাইস এর মধ্যে পূর্ব থেকে কোন সংযোগ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন হয় না এবং ডেটা পাঠানোর পূর্বে প্রেরক-গ্রাহক এর সাথে কোন ACK(Acknowledge) মেসেজ এর মাধ্যাম কানেকশন তৈরি করে না। কানেকশনলেস ট্রান্সমিশন এর বৈশিষ্ট্য হল:

  • অনির্ভরযোগ্যতা
  • দ্রুত পরিবহনের সুবিধা
  • ডেটা রিট্রান্সমিশন সুবিধা নেই

UDP (User Datagram Protocol) এর ক্ষেত্রে এই ধরনের ট্রান্সমিশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় ।

ট্রান্সর্পোট লেয়ারে ডেটার ফরম্যাটিকে সেগমেন্ট বলা হয়। এই সেগমেন্ট এর মধ্যে সোর্স পোর্ট নম্বর, ডেস্টিনেশন পোর্ট নম্বর এবং ডেটা থাকে।

 

নেটওয়ার্ক লেয়ার (Network Layer)

Network লেয়ার OSI মডেলের Network লেয়ারের মতই কাজ করে থাকে। এই লেয়ার নেটওয়ার্কের প্রেরক ও গ্রাহক এর মধ্যে লজিক্যালি সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই লেয়ারে ট্রান্সপোট লেয়ার হতে প্রাপ্ত ডেটাকে প্যাকেটে ভাগ করে। এই লেয়ার ডেটা রাউটিং এর কাজ করে এবং IP Address নিয়ে কাজ করে ।

নেটওয়ার্ক লেয়ারে ডেটার ফরম্যাটকে প্যাকেট বলা হয়। এই প্যাকেট এর মধ্যে সোর্স আইপি অ্যাড্রেস, ডেস্টিনেশন আইপি অ্যাড্রেস এবং ট্রান্সপোর্ট লেয়ার থেকে প্রাপ্ত সেগমেন্ট থাকে। এই লেয়ারে রাউটার, ব্রাউটার, গেটওয়ে ইত্যাদি ডিভাইস ব্যবহৃত হয়।

 

নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস লেয়ার (Network Interface Layer):

Network Interface লেয়ার OSI মডেলের Physical এবং Data link লেয়ারের কাজ সম্পাদন করে থাকে। এই লেয়ারে একটি হোস্টকে একটি নেটওয়ার্কের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করতে এবং ডেটা সরবরাহ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটোকল এবং হার্ডওয়্যার নির্ধারণ করে থাকে।

 


Written by,

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published.